মেটাভার্স গ্রহণে বিলম্ব করলে পিছিয়ে পড়বে : বদরুল হুদা খান
‘মনে করো তুমি ২০১৯ সালে মহাকশে গিয়েছো। এক বছর পর পৃথিবীতে এসে দেখো মানুষের মুখ বানরের মতো। মুখে এঁটে আছে মুখোশ। বন্ধ হলো স্কুল-কলেজ। শুরু হয় ভার্চুয়াল পাঠ। তার মানে শিক্ষকের জায়গা প্রযুক্তি দখল করেনি। সহযোগী হয়ে এসেছে। নিয়ত পরিবর্তনশীল এই পৃথিবীতে মেটাভার্স গ্রহণে বিলম্ব করলে পিছিয়ে পড়তে হবে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর করা যাবে না। কিন্তু সবার জন্য অ্যাক্সেসেবল করতে হবে। নজর দিতে হবে, ডিজিটাল ডিভাইড যেনো না ঘটে।
রবিবার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. আনোয়ারুল আবেদীন সম্মানার্থে অনুষ্ঠিত লেকচার সিরিজে দেয়া বক্তব্যে এমনটাই বললেন বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খান।
এআইইউবির ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ বি এম সিদ্দিক হোসেন ওয়েবিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অতিথি এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তিনি আগামীর শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তা গ্রহণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আপটুডেট রাখতেই এ ধরনের সেমিনার অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
ওয়েবিনারটির মডারেশনের দায়িত্বে ছিলেন ফ্যাকাল্টি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পরিচালক ড. দীপ নন্দী।
ঘণ্টাব্যাপী লেকচারে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে গবেষণা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৮টি চাওয়া উল্লেখ করে আধুনিক ই-লার্নিং বিশেষজ্ঞ বদরুল খান বলেন, মেটাভার্স পরাবস্তব হলেও এর প্রভাব বাস্তব। তাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এখন মিথষ্কৃয়ায় আরো বেশি বন্ধুবৎসল হতে হবে। কেননা, গুগল বা অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন শিক্ষকদের প্রশ্নের মুখোমুখি করছে। ইক্টারঅ্যাক্টিভ লার্নিং হতে হয় ৩ মিনিটের মধ্যে বিষয়বস্ত নির্ভর।
‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোভিড নিয়ে এসেছে নতুন বাস্তবতা’ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কেবল অনলাইনেও শিক্ষাদান আনন্দময় থাকে না। মেটাভার্স থাকলেও শিক্ষকের ভূমিকা মোটেই কমছে না। প্রকারন্তরে বাড়ছে। কেননা মেটাভার্সকে শেখাতে হবে শিক্ষকদেরেই। তাই তাদেরকে প্রযুক্তির ব্যবহার আরো জানতে হবে। তা না হলে মেটাভার্সও বিপত্তি ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করেন মি. খান।
তার ভাষায়, দেশ ও স্থান ভেদে ভাষা, কালচার, কনটেস্ট পরিবর্তন হচ্ছে। তাই বাংলাদেশে যেই শারীরিক ভাষাটি কাচকলা দেখায় সেটি আমেরিকায় বাহবা দেবার জন্য ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে পাঠপ্রদান পদ্ধতিতে আন্তঃক্রিয়াশীল বিকেন্দ্রিকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মেটাভার্স নিজেরা তৈরি না করতে পারলেও বিভিন্ন দেশ থেকে যখন আমদানি করতে হবে সেজন্য মেটাভার্স-শিক্ষণ প্রক্রিয়া সার্বজনীন করতে অবিলম্বে ‘বাংলাদেশ মেটাভার্স ফাউন্ডেশন’ গঠনের দাবি পূনর্ব্যক্ত করেছেন এই শিক্ষাবিদ। একইসঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য উচ্চগতির ব্যান্ডউইথ ও হালনাগাদ ডিভাইস সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।







